জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যশোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৫)। চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে এই প্রথম কোনো সাংবাদিক হত্যার ঘটনা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিরাপত্তা ও অধিকার সংগঠন প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইন (পিইসি)।
পিইসি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি রাতে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজার এলাকায় তিনজন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত রানা প্রতাপ বৈরাগীকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যেখানে গুলির পাশাপাশি গলা কেটে দেওয়ার আলামতও পাওয়া যায়।

রানা প্রতাপ বৈরাগী ছিলেন বাংলা দৈনিক দৈনিক বিডি খবর-এর সম্পাদক। তিনি যশোর জেলার আরুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কেশবপুর উপজেলার একজন হিন্দু স্কুলশিক্ষকের সন্তান। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি কোপালিয়া বাজারে একটি বরফ তৈরির কারখানাও পরিচালনা করতেন।
প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইনের সভাপতি ব্লেইজ লেম্পেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদারকি করেন এবং নিহত সাংবাদিকের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করেন।
পিইসির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি নবা থাকুরিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক মনোযোগে এসেছে। এই অস্থিরতার মধ্যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পিইসি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হন। তারা হলেন—আসাদুজ্জামান টুহিন (দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ), বিভূরঞ্জন সরকার (আজকের পত্রিকা), ওয়াহেদ-উজ-জামান বুলু (দৈনিক আজকের কাগজ), খান্দাহার শাহ আলম (দৈনিক মাতৃজগত) এবং ইমদাদুল হক মিলন (বর্তমান সময়)।
সংগঠনটি মনে করে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই সাংবাদিক হত্যাসহ গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব অপরাধে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।