প্রায় দেড় বছর কেটে গেলেও মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কেন এই প্রশ্নে সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে কিছুটা শৈথিল্য রয়েছে। তার মতে, ১৮ ডিসেম্বর রাতে সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলার সময়ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তিনি বলেন, “আগে থেকে জানা থাকলে এটার প্রতিরোধমূলক বন্দোবস্ত নেওয়া উচিত ছিল। এবং এটা যখন তারা করছিল, তখনও তাদেরকে নিবৃত্ত করা যেত; এটা খুব কঠিন কাজ না।”
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, খুনিরা দেশে থাকলে ধরা পড়বে। এতে বোঝা যাবে এটি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কিনা, নাকি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত শত্রুতার ফল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করেন নুরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে ৫০০ থেকে এক হাজার লোককে গ্রেপ্তার করে ভোট পর্যন্ত কারাগারে রাখা যেতে পারে।
হাদি হত্যার পর রাজনীতিকসহ ৫০ জনের ‘হিটলিস্ট’ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গানম্যান নিয়োগ আংশিক সমাধান হতে পারে। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স নেওয়া যেতে পারে।
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের সময়মতো অ্যাকশনের অভাব ছিল। ডিএমপি বলেছিল, অ্যাকশন নিলে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। কিন্তু নুরুল হুদা এটিকে ‘মন্দ অজুহাত’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন ছিল না।
ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্মের নামে উন্মাদনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে হেয় করেছে। অতীতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও রামুর ঘটনার মতো এখানেও সব দলের লোক অংশ নিয়েছে।
নুরুল হুদা মনে করেন, সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও মব সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও শিক্ষা জরুরি। তিনি বলেন, “এখানে কোনো শৈথিল্য দেখাবার অবকাশই নাই।”