সর্বশেষ

মানববন্ধন ঘিরে ৫ সাংবাদিক প্রেস ক্লাবে নিষিদ্ধ

কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিইউজের মানববন্ধন

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০
কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিইউজের মানববন্ধন

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে কার্যালয় খুলে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর একাংশ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদুল আলম খান তপু, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও আমজাদ হোসেনসহ নেতারা বক্তব্য দেন।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ‘মব সন্ত্রাস’ চালিয়ে ডিইউজের কার্যালয় ভাঙচুর ও দখল করা হয়। তাদের দাবি, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের অংশ হলেও সংঘবদ্ধ হামলা ও তালাবদ্ধ করে সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে তালা খুলে দিয়ে কার্যালয় বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় আটক ভিন্নমতের সাংবাদিকদের মুক্তি এবং তিন শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।

 

প্রভাতফেরি সহকারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ডিইউজে নেতারা

 

মানববন্ধন শেষে তারা প্রভাতফেরি সহকারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরে প্রেস ক্লাবে ফিরে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্লোগান দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমর্থন-সমালোচনা দুই-ই দেখা যায়।

 

ডিইউজের নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংগঠনের কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং দেড় বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগপন্থি তকমা দিয়ে ডিইউজে কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিএনপিপন্থী কিছু সাংবাদিক তালা ভাঙেন, পরে বহিরাগতরা প্রবেশ করে অফিস ভাঙচুর ও কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এরপর থেকেই কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট  ডিইউজে কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

 

সাম্প্রতিক মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে জুলাই রেভলুশনারি জার্নালিস্টস অ্যালায়েন্স (জেআরজেএ) নামে এক সংগঠন বিবৃতি দিয়ে কর্মসূচির সমালোচনা করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল ফরাজী দাবি করেন, প্রেস ক্লাবে ‘মুজিববাদী স্লোগান’ দিয়ে দখলের চেষ্টা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

তবে ডিইউজের নেতারা এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সাংগঠনিক অধিকার আদায়ের কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে; তাই গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত না করে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা উচিত।

 

এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে পাঁচ সাংবাদিককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ব্যবস্থাপনা কমিটি। জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে পাঁচ সাংবাদিককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ব্যবস্থাপনা কমিটি

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভেতরে ইউনিয়ন অফিসের দরজায় দাঁড়িয়ে স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে নিম্নলিখিত পাঁচ বহিরাগতকে ক্লাব প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। তারা হলেন: গোলাম মুজতবা ধ্রুব, সাইফ আলী, সোহেলী চৌধুরী, সাজেদা হক, রহিমা খানম।

 

প্রেস ক্লাব এলাকায় শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে। ডিইউজের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তাদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের সাংগঠনিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

সব খবর

আরও পড়ুন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মারধর নিয়ে তোলপাড়

৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মারধর নিয়ে তোলপাড়

দুই মাসেও জামিন মেলেনি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ দুই মাসেও জামিন মেলেনি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আইপিআই’র

নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও সহিংসতার আশঙ্কা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আইপিআই’র

সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

টিআইবি’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইন্টিনের সতর্কবার্তা জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

টিআইবি’র প্রতিবেদন ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

টিআইবি’র বিবৃতি গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’