গুগল (অ্যালফাবেট) ২০২৫ সালের জানুয়ারি–জুন সময়কালের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই ছয় মাসে মোট ২৭৯টি কনটেন্ট অপসারণ অনুরোধ পাঠিয়েছে। অনুরোধগুলোর অধিকাংশই সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট লক্ষ্য করে করা হয়েছে। মোট আইটেম হিসেবে অনুরোধ ছিল ১,০২৩টি, যা সংখ্যায় আগের সরকারের তুলনায় কম হলেও, সমালোচনামূলক কনটেন্ট লক্ষ্য করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে আওয়ামী লীগ সরকার অনুরোধ করেছিল ৩৩৭টি এবং আইটেম ছিল ৪,৪৭০টি যা তুলনামূলকভাবে অধিক বিস্তৃত ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে সরাসরি সমালোচনামূলক ভিডিওগুলো টার্গেট করা হয়েছে বেশি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৮১টি অনুরোধই ছিল সরকারের সমালোচনা করা ইউটিউব ভিডিও সরানোর জন্য। সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
গুগল জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো আইটেমগুলোর ৬৫ শতাংশেই পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। এছাড়া ১৬.১% অনুরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ৯% ভিডিও আগে থেকেই সরানো ছিল, ২.৫% আইনি প্রক্রিয়ায় এবং ৩.৭% নীতি অনুযায়ী সরানো হয়েছে। ৩.৫% ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট পাওয়াই যায়নি।
অন্যদিকে ইউটিউব তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ৬ লাখ ২১ হাজার ৬৫৫টি ভিডিও সরিয়েছে এই সময়ে। সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার ধারা ৮ অনুযায়ী বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ব্লকের অনুরোধ করতে পারে।
আইনে বলা থাকলেও, কোন কনটেন্ট ব্লক করা হয়েছে সরকার তা এখনো প্রকাশ করেনি। ডিজিটালি রাইটের এমডি মিরাজ আহমেদ চৌধুরী বলছেন, “স্বচ্ছতার অঙ্গীকার থাকলেও তথ্য প্রকাশ না করা উদ্বেগজনক। কোন সমালোচনা সরকার সরাচ্ছে তা জানার অধিকার মানুষের আছে।”