নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও বৈষম্যমূলক মন্তব্যের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তুলেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতারা। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নারীর মর্যাদা খর্বকারী বক্তব্য দেওয়া কোনো ব্যক্তি বা দল গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের নৈতিক অধিকার রাখে না।
বিবৃতিতে নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “যারা নারীদের অবমাননা করে, তাদের কাছেই আবার ভোট চান কীভাবে?” তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু নারীসমাজের প্রতি অসম্মান নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী। তাই নারীসমাজসহ প্রগতিশীল ভোটারদের জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির বলেন, ‘সৃষ্টিগত কারণেই নারীরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার উপযুক্ত নয়।’ পরে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ ও ‘পতিতাবৃত্তির আরেক রূপ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও জামায়াত দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দেওয়া আরেক বক্তব্যে নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নের পক্ষে কথা বলায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
যুক্তফ্রন্ট নেতাদের মতে, এসব বক্তব্য পরস্পর সাংঘর্ষিক এবং রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল। তাঁরা বলেন, “যদি সত্যিই নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস থাকে, তাহলে দলের শীর্ষ পদে নারী কেন থাকবে না?” তাঁদের দাবি, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মওদুদীর আদর্শেই নারী নেতৃত্ব অস্বীকার করা হয়েছে, যা দলটির মূল দর্শনের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাসদ, সিপিবি, জাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগসহ বিভিন্ন বাম ও প্রগতিশীল দলের নেতারা। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে নারীর অধিকার প্রশ্নে এমন বিতর্ক ভোটের মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।