রাজধানীর গুলশান এলাকার নর্দ্দা বাজারে এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—একরাম হোসেন (২৩), নাইমুর রহমান (২৪), আতিক (১৮), শরিফ (১৬) ও লোকমান (১৬)। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং তার ওপর পানি ঢালা হচ্ছে। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর গুলশান থানা পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতনের শিকার নারী একজন ভবঘুরে এবং তিনি জীবিকার জন্য ময়লা সংগ্রহ করতেন। ভোররাতে নর্দ্দা এলাকার একটি মাদ্রাসার খোলা কক্ষে তিনি প্রবেশ করলে সেখানে থাকা কয়েকজন মাদ্রাসাছাত্র তাকে আটক করে। পরে তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পানি ঢেলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
ওসি বলেন, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আটক করে। বর্তমানে তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ এ ঘটনায় স্বপ্রণোদিতভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য নির্যাতনের ঘটনা সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের প্রতিফলন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।