দেশে নারী ও শিশুদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা ও যৌন সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সামাজিক সংগঠন আমরাই পারি জোট। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন জায়গায় সব বয়সী নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নরসিংদীর মাধবদী, পাবনার ঈশ্বরদী এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো এ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য তুলে ধরে জোটটি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন কন্যাশিশু এবং ১ হাজার ৫৭৪ জন নারী। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮৬ জন, যার মধ্যে ৫৪৩ জনই শিশু।
আমরাই পারি জোটের মতে, একটি মহল নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং উগ্রবাদী ও নারী বিদ্বেষী বক্তব্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এতে অপরাধীদের দায় আড়াল করার প্রবণতা বাড়ছে এবং সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মতো বিপজ্জনক মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে সংগঠনটি সরকারের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, অপরাধীদের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন এবং নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে সই করেছেন সুলতানা কামাল, শাহিন আনাম, শীপা হাফিজা, জিনাত আরা হক, ফওজিয়া খোন্দকার ইভা, রেখা সাহা, মাহবুবা বেগম হেনা, সেলিনা আহমেদ, সাহিদা পারভীন শিখা, কাজী সুফিয়া, বনশ্রী মিত্র নিয়োগী, জিয়াউল আহসান, রাবেয়া বেগম, হাসিনা বেগম নীলা, লায়লা আরজুমান্দ বানু, রিজিয়া পারভীন, স্বপন কুমার বর্মণ, ফারহানা হাফিজ, শাহনাজ সুমি, মাহফুজা হক নীলা, ইলিরা দেওয়ান, ড. নীলিমা আখতার, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রয়েল, অ্যাডভোকেট বশির আহমেদ চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন মনি, আফসানা বিনতে আমিন, ইশরাত জাহান ঊর্মি, ইরফাত আরা ইভা, শায়লা সুলতানা, অনিমা কুজু, অ্যাডভোকেট সুরাইয়া পারভীন এবং নুসাইফা আহসান।
সংগঠনটির মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীর প্রতি সম্মানজনক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।