বিদায়ী বছরটি ছিল নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের জন্য ভয়াবহ। ২০২৫ সালে ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার মাত্রা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে কন্যাশিশুরা। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ নজরদারির অভাবেই এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে। অপরাধীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা নারী ও শিশু কাউকেই রেহাই দেয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৫৩টি, যা ২০২৪ সালের ৩৪৫টি ঘটনার প্রায় দ্বিগুণ।
- দলগত ধর্ষণ: ২০২৫ সালে ১৭১টি, ২০২৪ সালে ১৪২টি।
- ধর্ষণের পর হত্যা: ২০২৫ সালে ২৯ জন, ২০২৪ সালে ২৩ জন।
- ধর্ষণের চেষ্টা: ২০২৫ সালে ১৮১ জন, ২০২৪ সালে ৯৪ জন।
- পারিবারিক সহিংসতা: ২০২৫ সালে ৩৫ জন নারী, ২০২৪ সালে ২৫ জন।
২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আছিয়াকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাচেষ্টা চালায় তার আত্মীয় হিটু শেখ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। আদালত এ ঘটনায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আছিয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়।
বছরজুড়ে পারিবারিক সহিংসতাও বেড়েছে। যৌতুক আদায়, পরকীয়ায় বাধা, একাধিক বিয়ে, মানসিক অসুস্থতা ও বিষণ্নতার কারণে নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ২০২৫ সালে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর তুলনায় বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কন্যাশিশুরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এ অপরাধ বেড়েছে। কারাগার থেকে বিভিন্ন অপরাধী ছাড়া পাওয়ায় ধর্ষণের মতো অপরাধ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু ঘটনায় দ্রুত বিচার হলেও তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
২০২৫ সাল নারী ও শিশু নির্যাতনের জন্য ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সামাজিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য, বেকারত্ব ও অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির কারণে ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনের প্রতি আস্থাহীনতা এ অপরাধকে আরও উসকে দিচ্ছে।