ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক সংখ্যালঘু হিন্দু বিধবা নারীকে (প্রায় ৪০) গণধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার নদীপাড়া এলাকায় ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী নারী সোমবার (৫ জানুয়ারি) কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান। তিনি তার ১০ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে একাই বসবাস করতেন। প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি একই এলাকার শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে দুইতলা বাড়িসহ তিন শতক জমি কিনেছিলেন। এরপর থেকেই শাহিন তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে তাকে হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।
শনিবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর গ্রামের বাড়ি থেকে দুই আত্মীয় তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতের দিকে শাহিন ও তার সহযোগী হাসান বাড়িতে ঢুকে প্রথমে ওই দুই আত্মীয়কে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এরপর ভুক্তভোগী নারীকে অন্য কক্ষে নিয়ে গিয়ে পরপর ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আত্মীয়দের মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপর ভুক্তভোগী নারী চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চিকিৎসার এক পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই নারী ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর ও নৃশংস। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এটি শুধু নারী নির্যাতন নয়—সংখ্যালঘু নারীর ওপর ভয়াবহ সহিংসতার নগ্ন উদাহরণ।