ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা এলাকায় কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ২৬ বছর বয়সী এক সংখ্যালঘু ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ঘটনাটি রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া এলাকায় ঘটে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, কয়েক মাস আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এক সন্তানের জননী ওই নারী তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। রোববার বিকেলে তিনি আড়ালিয়া গ্রামে আয়োজিত একটি কীর্তনে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে রাত ৯টার দিকে পরিচিত কয়েকজন যুবক তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পরে তাকে শশীগঞ্জ গ্রামের একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়।
ভোরে স্থানীয়রা দাসপাড়া এলাকায় রাস্তায় বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। প্রথমে তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, রাকিব, শাকিল ও রাসেল নামের তিন যুবক তার মেয়েকে নিয়ে যায় এবং নির্যাতন করে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তজুমদ্দিন থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম জানান, এ ঘটনায় রাকিব নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. শামসুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা জটিল এবং ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অপর এক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হোসেন জানান, তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধী নারীরা সামাজিকভাবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকেন। তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত ও সংবেদনশীল পদক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এমন ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা আরও বাড়বে।