সর্বশেষ

মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, একে দমন করতে হবে

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০০
নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, একে দমন করতে হবে

বাংলাদেশে নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার উদ্বেগজনক প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, মব সহিংসতা এবং নারীবিরোধী প্রচারণা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—এ সময়ে ২ হাজার ৪৬৮ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনায় ৭১৩ জন নারী ও কন্যাশিশু আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, অপহরণ, যৌন নিপীড়ন এবং সাইবার সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না এলে সহিংসতা কমবে না। তিনি গণমাধ্যম, সমাজের প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে যৌথভাবে নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবকে তিনি নারীবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, সমাজের নানা অজুহাতে নারী নির্যাতনকে ‘অনুমোদন’ দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা আরও সহিংসতা উসকে দেয়। নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিরোধিতাকারীদের প্রতি সরকারের নীরবতাকেও তিনি হতাশাজনক বলেন।

 

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মব ভায়োলেন্স ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন কমছে না তা প্রমাণ করে। অন্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ না থাকলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন অসম্ভব। তিনি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানান।

 

মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলা হয়, সহিংসতা শুধু নারীর অগ্রগতিই নয়, বরং সামগ্রিক সমাজ-রাষ্ট্রের উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি করে। বিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপ উল্লেখ করে জানানো হয়, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী কোনো না কোনো সময় স্বামীসহ নিকটজনের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সব খবর

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস আজ

বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস আজ

২০২৪ সালে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী হত্যা

জাতিসংঘের ভীতি সঞ্চারক প্রতিবেদন ২০২৪ সালে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী হত্যা

অক্টোবরে দেশে ২৩১ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার

মহিলা পরিষদের বিবৃতি অক্টোবরে দেশে ২৩১ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার

গণমাধ্যমকর্মী স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

২৪৩ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি গণমাধ্যমকর্মী স্বর্ণময়ীর আত্মহত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি

কেন এই পথ বেছে নিলেন স্বর্ণময়ী?

ঢাকা স্ট্রিম কর্মীর মৃত্যুতে বিতর্ক কেন এই পথ বেছে নিলেন স্বর্ণময়ী?

অভিযোগপত্রে ক্ষুব্ধ বাদী, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ পুলিশের

পল্লবীতে নারী সাংবাদিক ধর্ষণ অভিযোগপত্রে ক্ষুব্ধ বাদী, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ পুলিশের

প্রতি দুই নারীর একজন স্বামীর সহিংসতার শিকার

বিবিএস জরিপ প্রতি দুই নারীর একজন স্বামীর সহিংসতার শিকার

‘রাজনীতিতে নারীরা কোথায়’

সমালোচনার মুখে ঐকমত্য কমিশন ‘রাজনীতিতে নারীরা কোথায়’