আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনকে কেন্দ্র করে বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ‘অসদাচরণ’-এর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)। সংস্থাটি এ ঘটনাকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর “সরাসরি আঘাত” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে জেএমবিএফ জানায়, বরিশালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার জামিন মঞ্জুরের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত কক্ষে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তাদের অভিযোগ, আইনজীবীরা বেঞ্চের সামনে ধাক্কাধাক্কি, জোরপূর্বক আদালতকক্ষে প্রবেশ, বিচারকের প্রতি আঙুল তুলে চিৎকার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অসম্মানজনক আচরণে লিপ্ত হন।
সংস্থাটি মঙ্গলবারের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নয়, বরং বিচার বিভাগের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম এস এম শরিয়তুল্লাহ-এর আদালতে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে তারা ‘আদালত অবমাননা’র সামিল বলে মন্তব্য করেছে।
জেএমবিএফ বলেছে, আদালতকক্ষে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বেঞ্চে শারীরিক আগ্রাসন, বিচারকের প্রতি চিৎকার-চেঁচামেচি এবং বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া স্পষ্টতই দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব কর্মকাণ্ড আইনগতভাবে ‘কনটেম্পট অব কোর্ট’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহানুর ইসলাম বলেন, “কোনো বিচারিক আদেশের বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইনে স্পষ্ট প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল, রিভিশন বা বাতিলের আবেদন করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালতকে রণক্ষেত্রে পরিণত করা এবং বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করার চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অগ্রহণযোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার সরাসরি চেষ্টা এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে জেএমবিএফ। কমিশনকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সুনাম, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। মতবিরোধ থাকলে তা আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার ওপর জোর দিয়ে জেএমবিএফ বলেছে, বিচার বিভাগকে যে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ ও প্রভাবমুক্ত রাখা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।