বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে মানবাধিকার, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় পাঁচটি নাগরিক সমাজ সংগঠন। ‘ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স’-এর নেতৃত্বে সংগঠনগুলো ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া ক্যালাসের কাছে এই চিঠি পাঠায়।
গত সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান, সংঘবদ্ধ সহিংসতা বা ‘মব ভায়োলেন্স’ এবং ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা গণতান্ত্রিক পরিসর নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের (এসএডিএফ) নির্বাহী পরিচালক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য পাওলো কাসাকা সংগঠনগুলোর পক্ষে চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক সুরক্ষা, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, হিযবুত তাহরীর ও আনসার আল ইসলামের মতো উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো ‘মব ভায়োলেন্স’-এর আড়ালে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে বলে দাবি করা হয়।
এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার ফলে অতীতের সহিংস ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা উগ্রবাদী শক্তিগুলোকে আরও উৎসাহিত করেছে।
চিঠিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, একদিকে বিএনপিপন্থী ও জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিসর আরও সংকুচিত হয়েছে।
এ ছাড়া দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা এবং ভারতীয় হাই কমিশনের একাধিক কার্যালয়ে হামলার চেষ্টার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার এসব ঘটনাকে মৌলিক স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলো হলো—সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (বেলজিয়াম), ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (ইইউ ও যুক্তরাজ্য), ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (জার্মানি), আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক এবং ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স।