আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর এক জরিপে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, জরিপে অংশ নেওয়া সংখ্যালঘুদের ৫০ শতাংশের বেশি ভোট ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫০৫ জন সংখ্যালঘু নাগরিকের মতামত নিয়ে এ জরিপ পরিচালনা করে। ফলাফলে দেখা যায়, ২৫ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা নিজেদের ‘অনিরাপদ’ বা ‘চরম অনিরাপদ’ বলে মনে করেন। নির্বাচন সামনে রেখে এমন আশঙ্কা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের আগে-পরে বিশেষত ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নজির রয়েছে। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা ও নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। এবারের জরিপ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা এখন সীমায় পৌঁছেছে। তার মতে, “এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও বলেন, নারী, সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতের রাজনৈতিক শক্তিসহ সব পক্ষের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দৃশ্যমান উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।