জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ সরকারের কাছে লেখক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরকে ‘অবিলম্বে মুক্তি’ ও ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
জুলাই সহিংসতার পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে শাহরিয়ার কবিরকে আটক করা হয়। পরে জুলাই দাঙ্গার সময়কার একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আটক হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন; একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং জামিন আবেদনও নামঞ্জুর হয়।
চলতি বছরের শুরুতে শাহরিয়ার কবিরের পক্ষে ইউএনএইচআরসির কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়, যেখানে ‘আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন’সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে কাউন্সিলের ওয়ার্কিং গ্রুপ সম্প্রতি ১১ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি জানতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে বার্তা পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরে ১৩ মে সরকারের জবাব এলেও কর্মপদ্ধতির নিয়ম অনুযায়ী তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
ওয়ার্কিং গ্রুপ বলছে, শাহরিয়ার কবির এক বছরের বেশি সময় ধরে আটক আছেন, কিন্তু তার বিচারকাজ শুরু হয়নি—যা আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি (আইসিসিপিআর)–এর পরিপন্থী। আটক ব্যক্তির ‘অর্থবহ ও নিয়মিত বিচারিক পর্যালোচনা’ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, টক শোতে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে এবং সরকার এ নিয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এমনকি অভিযোগগুলো কীভাবে হত্যাকাণ্ড বা হত্যাচেষ্টায় উসকানি হিসেবে কাজ করেছে, সে ব্যাখ্যাও দিতে পারেনি সরকার।
শাহরিয়ার কবির চরমপন্থি মতাদর্শ, সন্ত্রাসবাদ ও মুক্তিযুদ্ধের নৃশংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন—যা তার রাজনৈতিক শত্রু তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছে ইউএনএইচআরসি।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই লেখক শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বশিল্পেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলায় কারাবন্দি।
ইউএনএইচআরসি বাংলাদেশকে তার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং তার অধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।