দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন নেতারা জনরোষ থেকে দৃষ্টি সরাতে ঘৃণার রাজনীতিকে ব্যবহার করছেন এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ডেপুটি এশিয়া পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, পক্ষপাতহীন বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হলে সেই ঘৃণা একদিন জনরোষে রূপ নিয়ে নেতাদের ক্ষমতাকেই বিপন্ন করতে পারে।
নিবন্ধে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা, ভারতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বড়দিনের অনুষ্ঠানে হিন্দুত্ববাদী নেতার হামলা, নেপালে মোবাইল চুরির মিথ্যা অভিযোগে এক দলিত যুবকের মৃত্যুর ঘটনা—এসবই আইনের শাসনের ভাঙনের ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলির মতে, বহু দেশের নেতা সংখ্যালঘু, শরণার্থী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে জনগণের দৃষ্টি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বেকারত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও এই ঘৃণা ছড়াতে ভূমিকা রাখছে।
নিবন্ধে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথাও উঠে আসে। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ব্যর্থতা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা নতুন করে গণতান্ত্রিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করা হয়। নেপালে ‘জেন জি’ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পরও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসায় হতাশা বাড়ছে। শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রেসিডেন্ট দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সংখ্যালঘু ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর দমন–পীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রে লেখক বলেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ভোটের স্বার্থে ঘৃণা উসকে দিচ্ছে, যার ফলে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ ও দলিতদের ওপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। প্রতিবাদ দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিবন্ধের শেষাংশে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, ঘৃণা নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সাফল্যের একমাত্র পথ।