চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহে মন্দির, বসতঘর ও খড়ের গাদাসহ অন্তত সাতটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক এসব হামলা পরিকল্পিত এবং নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই ঘটানো হচ্ছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে এক বাসিন্দার ঘরে আগুন দেওয়া হলে বসতঘরের আলনা, কাপড় ও আসবাবের একাংশ পুড়ে যায়। এর আগে ২৩ থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে তপন ধর, অমিও ধর, কানু নাথ, রতন ধর, অশোক ধর ও অনুপ ধরের বাড়ি ও খড়ের গাদায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত মন্দিরের পাশে রাখা সামগ্রী ও সোলার ব্যাটারিও পুড়ে গেছে।
এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাতৃমন্দিরে বার্ষিক মহোৎসবের প্রস্তুতি চললেও বাসিন্দাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
মৃদুলের স্ত্রী তমালিকা সাহা বলেন, দুপুরে একা থাকার সময় হঠাৎ বারান্দার সামনে আগুন দেখতে পান। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভান। তিনি বলেন, “এভাবে আর কতদিন আতঙ্কে থাকব?”
বাসিন্দাদের ধারণা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট নিজেদের পক্ষে নিতে এসব অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, একের পর এক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না।
মিরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াছমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা জানিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার কথা বলেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার ক্রমাগত অবনতি উদ্বেগজনক। ধারাবাহিক হামলার পরও দোষীদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও জোরদার হয়েছে।