সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে।
৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে মামুন গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। মঙ্গলবার সৌদি সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবা শহীদ সওদাগর জানিয়েছেন, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। নিহত মামুনের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
একই হামলায় আরও দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কচুয়ার কীর্তনখোলা গ্রামের মোশাররফ হোসেন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। মোশাররফ হোসেনের মরদেহ আগামী শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে সৌদি আরবে এ পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ ইতোমধ্যেই দেশে আনা হয়েছে, বাকিদের মরদেহ ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।
৮ মার্চ, সৌদি আরবের আল খারিজে মিসাইল হামলায় নিহত হন বাচ্চু মিয়া (কিশোরগঞ্জ), মোশাররফ হোসেন (টাঙ্গাইল) এবং গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যান আবদুল্লাহ আল মামুন (ময়মনসিংহ)।
এর আগে একই সংঘাতে আরও দুইজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের মরদেহ ইতোমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে।
এই মৃত্যুগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।