নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ূন কবিরের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের একের পর এক মৃত্যুর ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে যুক্ত হলো।
হুমায়ূন কবির নারায়ণগঞ্জ নগরের গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা। তিনি গলাচিপা পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি মরহুম চান শরীফ সরদারের ছেলে।
কারা সূত্র ও পরিবার জানায়, গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাকে কোনো মামলা ছাড়াই আটক করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকেই তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
জেল সুপার ফোরকান ওয়াহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে হুমায়ূন কবির কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বুকে ব্যথার কথা জানান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নারায়ণগঞ্জ ১৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
জেল সুপার দাবি করেছেন, হুমায়ূন কবির আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং অসুস্থতার কথা জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, অসুস্থতার বিষয়টি দেরিতে জানানো হয়েছে এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়নি।
এই মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ১৭ মাসে কারাগারে অন্তত ৫০ জনের বেশি নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে তারা দাবি করছে, যাদের অধিকাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে “হঠাৎ অসুস্থতা” বা “হার্ট অ্যাটাক” উল্লেখ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত নির্যাতন, চিকিৎসা বঞ্চনা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করছে। ক্রমবর্ধমান এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।