দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা এফটিএ) চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, এই চুক্তিকে গোটা বিশ্ব ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করছে।
চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ২৭টি দেশে ভারতের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে রফতানি করা যাবে। একইভাবে ইউরোপীয় দেশগুলির পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্কহ্রাস বা প্রত্যাহার করবে নয়াদিল্লি। ফলে দুই পক্ষের বাজারে পণ্যের দাম কমবে এবং ক্রেতারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
বিশ্বে রফতানিযোগ্য প্রায় ২৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হবে, যা একসঙ্গে ১৯০ কোটি মানুষের বাজারকে প্রভাবিত করবে। এ কারণেই এই চুক্তিকে ‘সব চুক্তির জননী’ বলা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যসঙ্গী। চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি সেবা, কৃষিপণ্য ও হস্তশিল্পের মতো খাতগুলোতে রফতানি বাড়বে। ভারতীয় পণ্য ইউরোপের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং দাম কমে যাবে।
অন্যদিকে ইইউভুক্ত দেশগুলির প্রায় ৯৬.৬ শতাংশ পণ্য বিনা শুল্কে ভারতে ঢুকতে পারবে। এর ফলে ভারতের বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা হবে ওয়াইন, বিয়ার, অলিভ অয়েল, মার্জারিন, ভোজ্যতেল, ফলের রস, অ্যালকোহলহীন বিয়ার, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন পাঁউরুটি, পেস্ট্রি, বিস্কুট, পাস্তা, চকোলেট, পোষ্যদের খাবার, ভেড়ার মাংস, সসেজ এবং অন্যান্য মাংসজাত খাদ্যপণ্য।
চুক্তির ফলে ভারত ও ইউরোপের ব্যবসায়ী ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হবেন। ভারতীয় ভোক্তারা ইউরোপীয় মানসম্পন্ন পণ্য কম দামে পাবেন, আর ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম কমে যাবে।
সব মিলিয়ে, ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি শুধু একটি অর্থনৈতিক চুক্তি নয়, বরং দুই মহাদেশের বাজারকে নতুনভাবে সংযুক্ত করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এ কারণেই এটিকে বলা হচ্ছে ‘সব চুক্তির জননী’।