দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গে আয়োজিত জি২০ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃত্রিম মেধা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এআই যেন ডিপফেক, অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার না হয়। এ জন্য জি২০ গোষ্ঠীকে কঠোর নিয়ন্ত্রণবিধি জারি করার আহ্বান জানান তিনি।
মোদী বলেন, এআই প্রযুক্তিকে শুধুমাত্র মুনাফার জন্য নয়, বরং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। তিনি প্রস্তাব দেন, এ প্রযুক্তির উপর মানুষের নজরদারি থাকতে হবে, নকশাগতভাবে নিরাপদ হতে হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অপব্যবহার ঠেকাতে আন্তর্জাতিকভাবে মৌলিক নীতি গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এআইকে কোনো দেশকেন্দ্রিকভাবে নয়, বৈশ্বিকভাবে দেখা উচিত। প্রযুক্তির কাজ হওয়া উচিত মানুষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সবসময় মানুষের হাতেই থাকতে হবে।
সম্মেলনের বক্তৃতার পাশাপাশি মোদী বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়। জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
রবিবার মোদী ভারত-ব্রাজিল-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেও যোগ দেন। বৈঠকে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সংস্কার ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি তিন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্তরে বৈঠক আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন।
বর্তমানে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে। ভারতের সঙ্গেও শুল্ক নিয়ে কূটনৈতিক সমস্যা চলছে। এ অবস্থায় এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠককে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, জি২০ সম্মেলনে মোদী এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন।