ইরানজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন বড় শহরে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানানোর পর বৃহস্পতিবার দেশটির একাধিক শহরে বড় মিছিলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসি যাচাই করা ভিডিওতে তেহরান ও মাশহাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
গত কয়েক বছরে ইরানের ক্ষমতাসীন মোল্লাতন্ত্রের বিরুদ্ধে এমন দৃশ্যমান শক্তি প্রদর্শন খুব একটা দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার তেহরান ও মাশহাদে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে শুরুতে নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান বাধা দেখা যায়নি বলেও ভিডিওগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে পরে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের খবর দেয়, যা নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকসও নিশ্চিত করেছে।
বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভিকে দেশে ফেরানোর দাবি। ভিডিও ফুটেজে ‘শাহ জিন্দাবাদ’, ‘এটাই শেষ লড়াই, পাহলভি ফিরবেন’—এমন স্লোগান শোনা যায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে একটি প্রধান সড়কজুড়ে মিছিলের সময় নজরদারি ক্যামেরা সরানোর দৃশ্যও দেখা গেছে। তেহরানের পূর্বাঞ্চলেও বড় বিক্ষোভের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা টানা ১২ দিনে গড়িয়েছে। একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের মতে, শতাধিক শহর ও ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব এলাকাতেই ছোট-বড় বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৫ শিশুসহ অন্তত ৩৪ বিক্ষোভকারী ও ৮ নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন; গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ হাজার ২৭০ জন। অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৪৫, যার মধ্যে ৮ শিশু রয়েছে। বিবিসি এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় দেজফুল থেকে পাওয়া ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির শব্দ শোনা গেছে। ইশফাহান, বাবুল ও তাবরিজসহ বিভিন্ন শহরে ‘একনায়কের মৃত্যু’, ‘ভয় পেও না, আমরা সবাই একসঙ্গে’—এমন স্লোগান উঠেছে।
বিক্ষোভের আগে রেজা পাহলভি ইরানিদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাসিত এই নেতা এক্সে লিখেছেন, লাখো মানুষ স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি ইরানি শাসকদের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং শুক্রবার রাতেও নতুন কর্মসূচির ডাক দেন।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভের ব্যাপ্তি খাটো করে দেখিয়ে কিছু শহরে আন্দোলন হয়নি বলে দাবি করেছে। বাস্তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।