পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকার ‘খাদিজা তুল কুবরা’ শিয়া মসজিদের মধ্যে নামাজ চলাকালীন সময়ে বিস্ফোরণটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী হামলাকারীকে মসজিদের প্রবেশপথে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি সুইসাইড ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় নিজেই বিস্ফোরণ ঘটান। বিস্ফোরণের ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন দুদিনের সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিওয়েভ ইসলামাবাদে আছেন।
স্থানীয় ডেপুটি কমিশনার ইরফান মেমোন জানান, আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর পরিস্থিতিতে রয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ইসলামাবাদসহ নগরীর তিনটি হাসপাতলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মসজিদের মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে আহত ও নিহত মুসল্লীদের জুতা স্যান্ডেল, কাঁচ ভগ্নাবশেষ ও চারদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় অনেকে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে আছে।
এ হামলা এমন সময় ঘটলো যখন পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে দেশ বিদেশে সমালোচনার মুখে রয়েছে। এর আগে গত নভেম্বরে ইসলামাবাদের একটি আদালত সংলগ্ন বিস্ফোরণেও ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। পাকিস্তানের সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতির তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করার কথা বলেছেন।
বর্তমানে কোন জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে হামলাকারী একজন বিদেশি নাগরিক এবং তার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধরা পড়েছে। তদন্ত এখনো চলছে।
পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি হামলাকে “মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ” হিসেবে উল্লেখ করে নিহত ও আহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।