পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯২৪ জনকে হত্যা করেছে পুলিশ। পাকিস্তানের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অফ পাকিস্তান (এইচআরসিপি) মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড মূলত নতুন গঠিত ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)-এর অভিযানে ঘটেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পাঞ্জাবে সিসিডি গঠন করা হয় বড় অপরাধ দমনের জন্য। এরপর থেকে অন্তত ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’-এ ৯২৪ জন সন্দেহভাজন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থার দাবি, এসব হত্যাকাণ্ড আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করে পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে।
দক্ষিণ পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর শহরের বাসিন্দা জুবাইদা বিবি জানান, সিসিডি কর্মকর্তারা তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে মোবাইল, নগদ অর্থ, জুয়েলারি এবং মেয়ের যৌতুকের টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর তাঁর তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), আদনান (১৮)—এবং দুই জামাতাকে তুলে নিয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সবাইকে পুলিশ এনকাউন্টারে হত্যা করে। জুবাইদা বলেন, সন্তানদের মুক্তির জন্য লাহোর পর্যন্ত অনুসরণ করলেও কোনো ফল হয়নি। মামলা করার পর পুলিশ হুমকি দেয় পরিবারের বাকি সদস্যদেরও হত্যা করা হবে।
এইচআরসিপি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সিসিডি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে এবং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফের অধীনে সিসিডি গঠন করা হয়। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ভাইঝি। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনে গঠিত এই সংস্থা আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করছে।
পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে আট মাসে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা শুধু প্রিয়জন হারাচ্ছেন না, বরং লুটপাট ও হুমকিরও শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।