ব্রিটেনে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশু বর্তমানে এমন পরিবারে বেড়ে উঠছে, যেখানে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের কর্মসংস্থান নেই। একই সঙ্গে লন্ডনে বসবাসরত কর্মক্ষম বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশই কর্মহীন—যা রাজধানীতে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ হার।
ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় (অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস–ওএনএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরে প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার শিশু বড়দিন কাটিয়েছে উপার্জনহীন পরিবারে। গত বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ বেশি। ১১ বছরের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ, যা ব্রিটেনের শ্রমবাজারের গভীর সংকটকে সামনে এনেছে।
সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হচ্ছে, বেকারত্বে জাতিগত বৈষম্য ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে বেকারত্বের হার যেখানে ৫ দশমিক ১ শতাংশ, সেখানে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। বিপরীতে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বেকারত্ব প্রায় দ্বিগুণ—৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি কমিউনিটি।
লন্ডনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। শহরটিতে শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে কর্মহীনতার হার ২০ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রায় ৪০ শতাংশের কোনো আয়ের উৎস নেই। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে লন্ডনের সামগ্রিক বেকারত্বের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আতিথেয়তা ও খুচরা বিক্রয় খাতে লন্ডনের অতিনির্ভরশীলতা সংকটকে তীব্র করেছে। পাশাপাশি ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স বৃদ্ধি ও ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বন্ধ বা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে।
বর্তমানে ব্রিটেনে উপার্জনহীন পরিবারের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর প্রায় ৪০ শতাংশ সদস্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে শ্রমবাজারের বাইরে রয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই প্রবণতা ব্রিটেনকে ‘কল্যাণ ফাঁদে’ ঠেলে দিচ্ছে।
লন্ডনের নিউহাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান জসিম বলেন, নতুন বছরে ভাতাভোগী লক্ষাধিক মানুষকে পুনরায় কর্মসংস্থানে ফেরানোই হবে ব্রিটিশ সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।