সর্বশেষ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংকুচিত হচ্ছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩০
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংকুচিত হচ্ছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা

যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ব্রিটিশ উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতিমালার কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন তথাকথিত ‘উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ’ বাজার থেকে শিক্ষার্থী নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্পন্সর লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।

 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ‘রিস্টোরিং কন্ট্রোল’ শীর্ষক একটি অভিবাসন শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। এতে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় নতুন করে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। সংশোধিত ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখতে হবে, যেখানে আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশ।

 

তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বর্তমানে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার প্রায় ১৮ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। এ পরিস্থিতিতে ডার্বির মতো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ঝুঁকি এড়াতে এসব দেশ থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ করছে।

 

ভিসা সাক্ষাৎকারে কঠোর যাচাই

 

দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের এখন ভিসা সাক্ষাৎকারে আগের চেয়ে অনেক কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শুধু একাডেমিক যোগ্যতা নয়, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য এবং যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়েও বিস্তারিত প্রশ্ন করা হচ্ছে।

 

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে কীভাবে শিক্ষাগত বিনিয়োগের সুফল পাওয়া যাবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি কোর্সের বিষয়বস্তু, মডিউল এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হচ্ছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আবেদনকারী নিজেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন।

 

বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ববিদ্যালয়

 

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলে সেই ঘাটতি পূরণে অনেক ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় এখন চীন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের দিকে ঝুঁকছে।

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা তহবিলের বড় একটি উৎস। যদি এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষার সুযোগ কিছুটা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে আফগান বাহিনীর হামলা

১৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে আফগান বাহিনীর হামলা

বরফ গলার আভাস দিচ্ছে নতুন ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর

বিএনপি সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক বরফ গলার আভাস দিচ্ছে নতুন ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর

তীব্র সংঘাত ও বাজার অস্থিরতার সুযোগ পাচ্ছে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি

স্কাই নিউজের বিশ্লেষণ তীব্র সংঘাত ও বাজার অস্থিরতার সুযোগ পাচ্ছে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানি

সৌদিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও এক বাংলাদেশি নিহত

ঢাকার উদ্বেগ প্রকাশ সৌদিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও এক বাংলাদেশি নিহত

এক সপ্তাহের মধ্যেই আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইরান যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ এক সপ্তাহের মধ্যেই আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে ইরান যুদ্ধ

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ

নেপালে নির্বাচনে এগিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী অবরোধে স্থবির হতে পারে বিশ্ববাজার

বিশ্ব অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয়ের কালো মেঘ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী অবরোধে স্থবির হতে পারে বিশ্ববাজার

উপসাগরজুড়ে পাল্টা আঘাত ও বিস্তৃত সংঘাতের শঙ্কা

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা উপসাগরজুড়ে পাল্টা আঘাত ও বিস্তৃত সংঘাতের শঙ্কা