ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের প্রবণতা কমলেও ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে ঢোকার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরাই শীর্ষে রয়েছেন। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথ ও বলকান সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কমেছে। তবে শুধুমাত্র ভূমধ্যসাগর পথেই অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন ৬৬ হাজার ৩২৮ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে মিসর এবং তৃতীয় স্থানে ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।
ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৩ সালের তুলনায় এ সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এবং ২০২১ সালের পর এটি সর্বনিম্ন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সীমান্ত পরিস্থিতি, সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানব পাচারকারী চক্রের কারণে অভিবাসনের চাপ যে কোনো সময় এক রুট থেকে অন্য রুটে সরে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর রুট দিয়েই সবচেয়ে বেশি মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা সংখ্যায় এগিয়ে ছিলেন। অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম বলকান রুটে প্রবেশের ঘটনা কমলেও পূর্ব লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে প্রবেশের ঘটনা তিন গুণ বেড়েছে। এ পথে ৫১ হাজার ৩৯৯ জন ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যাদের বেশিরভাগই আফগানিস্তান, সুদান ও মিশরের নাগরিক।
এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকা রুটেও অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে। তবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগর হয়ে আলজেরিয়া, সোমালিয়া ও মরক্কোর নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।
ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী জুন থেকে নতুন মাইগ্রেশন ও আশ্রয় চুক্তি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চালু হবে নতুন এন্ট্রি-এক্সিট ব্যবস্থা ও ভ্রমণ অনুমোদন পদ্ধতি।
যদিও সাগরপথে অভিবাসন কমেছে, তবুও ঝুঁকি রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পথে অন্তত ১ হাজার ৮৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি ইউরোপে অভিবাসন সংকটের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ছে।