মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব সংস্থা আর মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে না—এমন যুক্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই আদেশের আওতায় জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট ৩১টি সংস্থা এবং জাতিসংঘের বাইরে আরও ৩৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে সংস্থাগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
এদিকে আসন্ন কংগ্রেশনাল মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা হারলে অভিসংশনের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততেই হবে। আমরা যদি না জিতি, তাহলে তারা (ডেমোক্রেটরা) কোনও না কোনও কারণ খুঁজে আমাকে অভিশংসিত করবে।”
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় মতভেদ ভুলে গিয়ে জনগণের সামনে লিঙ্গনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তার নীতিগুলো তুলে ধরতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের মন জয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৮৪ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি জানান, স্ত্রী মেলানিয়ার পরামর্শে প্রকাশ্যে নাচ বন্ধ করেছেন। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি বিতর্কিত দাবি করেন, যেমন—ওয়াশিংটনে সাত মাস ধরে কোনও হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। তবে পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সেখানে ১২৭টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে রিপাবলিকানরা ঐতিহাসিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হবে। তবে দলের কিছু সদস্য দলীয় লাইনে না চলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।