রাশিয়ার সাখা প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ইয়াকুতস্ককে পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা শহর হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সেখানে তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। শীতকালে শহরটি প্রায়ই মাইনাস ৪০ ডিগ্রির নিচে চলে যায়, তবে এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রচণ্ড ঠান্ডায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাপন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। বাইরে বেরোতে হলে তাদের পশমের কোট, ভারী বুট, গ্লাভস এবং মুখ ঢাকার মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। গাড়ি ও যন্ত্রপাতি জমে যাওয়ার কারণে অনেক সময় এগুলো চালু রাখতে ২৪ ঘণ্টা ইঞ্জিন চালু রাখা হয়। খাবার ও পানীয় জমে যাওয়ার কারণে সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়।

শহরের রাস্তাঘাট, ভবন ও যানবাহন বরফে ঢেকে গেছে। দোকানপাট ও বাজারে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। স্কুল ও অফিসে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইন বা সীমিত সময়ের জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ইয়াকুতস্কের এই ভয়াবহ শীত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বরফে জমে যাওয়া রাস্তা, জমাটবদ্ধ ভবন এবং মানুষের সংগ্রামী জীবন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শহরটির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে।

ইয়াকুতস্ক পৃথিবীর অন্যতম শীতল জনবসতিপূর্ণ শহর। সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই শহরটি শীতকালে দীর্ঘ সময় বরফে ঢাকা থাকে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতকালে তা ভয়াবহভাবে নেমে যায়। শহরটির জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ হলেও কঠিন আবহাওয়ার কারণে জীবনযাপন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শীতকালে দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পানি জমে যাওয়ায় রান্না ও অন্যান্য কাজে সমস্যা হয়। শিশু ও বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে হাইপোথারমিয়া ও ফ্রস্টবাইটের ঝুঁকি রয়েছে।

শীতের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে সমস্যা দেখা দেয়। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। অনেক শ্রমিক কাজ করতে না পারায় আয় কমে যায়। তবে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াকুতস্কের এই ভয়াবহ ঠান্ডা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। সাইবেরিয়ার এই শহরটি তার অন্যতম উদাহরণ।