মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের কারণে এ বছর ঈদুল ফিতরের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান-এর পাল্টা আক্রমণের পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবেও।
আঞ্চলিক আকাশে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের তৎপরতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে স্বাভাবিক উৎসবের আমেজের পরিবর্তে বিরাজ করছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে ঈদের সময় সাধারণত ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় থাকলেও এ বছর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ঘরের বাইরে বের হতে অনাগ্রহী। এতে শহরগুলোতে এক ধরনের নীরবতা নেমে এসেছে।
কুয়েত-এ সরকার ঈদ উপলক্ষে কনসার্ট, ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। এমনকি ঈদের দিন ভোরেই দেশটির কয়েকটি তেল স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবার খোলা প্রাঙ্গণের পরিবর্তে সব ঈদ জামাত মসজিদের ভেতরে আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
ঈদ উপলক্ষে সৌদি বাদশা শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন এবং দেশবাসীকে সংযম ও ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে রিজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ঈদকে মুসলিম বিশ্বের পুনর্জাগরণ ও সংহতির মুহূর্ত হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কে ঈদের নামাজ শেষে দেওয়া এক বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, চলমান সংকটের মধ্যে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চলমান সহিংসতার নিন্দা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, মানুষের মানসিক অবস্থার ওপরও বড় প্রভাব পড়েছে। ভ্রমণ সীমিত হয়ে পড়েছে, বন্ধ রয়েছে নানা সামাজিক আয়োজন, ফলে ঈদের স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য অনুপস্থিত।
সব মিলিয়ে যুদ্ধের ছায়ায় এবার মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ উদযাপন হচ্ছে সীমিত পরিসরে, যেখানে আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি দৃশ্যমান।