আদালতে হট্টগোল ও ভাঙচুরের মামলায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন-কে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তারের পর তাকে কড়া নিরাপত্তায় মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোখলেচুর রহমান বাচ্চু জানান, সমিতির সভাপতিকে মহানগর হাকিমের দ্রুত বিচার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক মিরাজুল ইসলাম রাসেল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে এ আদেশের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জামিন আবেদন করা হলে বিচারক শুনানির জন্য আগামী ২ মার্চ দিন ধার্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারের পর সভাপতির সঙ্গে দেখা করার আবেদন করা হলেও আদালত সে অনুমতি দেয়নি। আদেশের পর একটি প্রিজন ভ্যানে করে লিংকনকে জেলা কারাগারে নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার। ওইদিন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস-কে একটি আদালত জামিন দিলে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা এর প্রতিবাদ জানান। মঙ্গলবার সকাল থেকে তারা মুখ্য মহানগর হাকিম ও অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভ শেষে দুপুরে আদালতের এজলাসে হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক এস এম শরিয়তুল্লাহ এজলাস ত্যাগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার পরদিনই সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও সেনাসদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এ ঘটনায় আইনজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছে, অন্য পক্ষ আদালতের শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছে। জামিন শুনানি ঘিরে আগামী ২ মার্চ আদালত প্রাঙ্গণে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।