বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে নজিরবিহীন এক ঘটনায় আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার থেকে আদালত চলাকালীন প্রধান বিচারপতির এজলাসে আইনজীবী ছাড়া সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের প্রবেশে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীরা বাধা দিচ্ছেন—যা গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নির্দেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিগগিরই একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হবে এবং নোটিশে বাধার কারণ স্পষ্ট করা হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত কেবল আপিল বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি পুরো সুপ্রিম কোর্টে কার্যকর হবে—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
সমালোচকদের মতে, নোটিশ জারির আগেই এভাবে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া সংবিধানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই মৌলিক অধিকারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, সুপ্রিম কোর্টই দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান, যেখানে সংবিধানসম্মত অধিকারসমূহের রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার দায় সর্বাধিক। সেই আদালতেরই আপিল বিভাগের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশ রুদ্ধ করা হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার জনস্বার্থে পর্যবেক্ষণ—সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এ বিষয়ে সংবিধানিক অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই নীরবতাও সমালোচনা বাড়িয়েছে। অতীতে আদালতের কার্যক্রমে সাংবাদিকদের উপস্থিতি কখনোই এভাবে সীমিত করা হয়নি—বিশেষ করে আগাম নোটিশ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়া।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। আদালতকে অবশ্যই আইন ও সংবিধানের আলোকে চলতে হবে—এবং সেই পথচলায় গণমাধ্যমের স্বাধীন উপস্থিতি কোনো বাধা নয়, বরং জনস্বার্থে বিচারিক জবাবদিহিতার একটি অপরিহার্য উপাদান।