আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার জবানবন্দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জিয়াউলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজনীন নাহার।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। দেশ গঠন থেকে শুরু করে দুর্যোগ-সংকটে জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখে। দীর্ঘ ৪০ বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা একজন সাবেক সেনাপ্রধানের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আমরা প্রত্যাশা করিনি।”
নাজনীন নাহারের দাবি, ইকবাল করিম তার জবানবন্দিতে ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা তিনি ‘গিবত’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তার সাক্ষ্য এখনো শেষ হয়নি বলে জানান তিনি।
শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে জিয়াউলের উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকায় নজরুল মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ আরও ৫০ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করে। পরে ২৩ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউলকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য-উপাত্তকে ভিত্তিহীন দাবি করে জিয়াউলের আইনজীবীরা তার অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।