সর্বশেষ

ছোটগল্প

আবার এসরাজ ঘুমাইয়া পড়িল

প্রকাশিত: ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৩
আবার এসরাজ ঘুমাইয়া পড়িল

সব কিছু নিয়ে বিরক্ত এসরাজ। তার বাবা কি এসরাজ বাজাতেন? ছেলের নাম এসরাজ রেখেছেন কেন? কী অভিসন্ধি ছিল ভদ্রলোকের মনে? এসরাজ বাদক বানাবেন ছেলেকে? বিরক্তিকর। এসরাজ বাদ্যকর হয় নাই। কিছু হয় নাই। পড়াশোনা করতে হয় বলে করেছে। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। যেতে পারে নাই। মেসে থাকে। মেসের মিল খায়। চায়ের নেশা আছে, সিগারেটের প্রবল নেশা আছে। খরচাপাতি কম লাগে না বাঁচতে। জন্মদাতা খরচাপাতির ব্যবস্থা করে যেতে পারেন নাই—বাংলাদেশের সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছে এসরাজকে। বিখ্যাত ‘নির্বাণ’ প্রকাশনার অনুবাদ বই সম্পাদনা করে সে। যা পায় তাতে চলে যায়।

 

নির্বাণ প্রকাশনার অফিস বাংলাবাজারে। যেতে হয় না, এসরাজ তবুও মাঝেমধ্যে যায়। বাংলাবাজারে যেতে ভালো লাগে তার। বাংলাবাজারের গোনাগুনতি নাই বইয়ের শো-রুম, ক্যাফে কর্ণার, চৌরঙ্গী, বিউটি বোর্ডিং ভালো লাগে। সারাদিন বইয়ের ঘ্রাণ ভালো লাগে। মাঝেমধ্যে বইয়ের ঘ্রাণ ভর্তি অলিগলিতে দেশের বিখ্যাত লেখক কবি আর্টিস্টদের দেখা যায়। ভালো লাগে।


সব কিছু নিয়ে বিরক্ত এসরাজ, এই কথাটা তাহলে যুক্তিযুক্ত না। শতভাগ ঠিক না। অধিকাংশ ব্যাপার নিয়ে বিরক্ত বা জগতের আটষট্টি ভাগ ব্যাপার নিয়ে বিরক্ত বলা যায়। আমেরিকার নাম আমেরিকা কেন এটা নিয়ে যেমন খুবই বিরক্ত। আমেরিগো ভেচপুচির নাম থেকে যদি দেশটার নাম আমেরিকা হয়ে থাকে, ভেচপুচি হতে দোষ ছিল কোথায়? ইউনাইটেড স্ট্যাটস অব ভেচপুচি।—চিকা মারা হতো তাহলে দেয়ালে, ভেচপুচির কালো হাত/ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও। শ্লোগান উঠত, ভেচপুচির আগ্রাসন/ধ্বংস হোক, নিপাত যাক। তা না তারা দেশটার নাম রেখে বসে আছে আমেরিকা।

 

এ (A)-তে আমেরিকা, এ (A)-তে অ্যাবস্ট্রাক্ট। এই আরেক জিনিস অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিং। বিরক্তিকর। বিরক্ত এসরাজ। কী আঁকে এসব আর্টিস্টরা? অংবংচং। দুঃখের কথা বইয়ের প্রচ্ছদ যারা বানায় তাদেরও অ্যাবস্ট্রাকশনের ভূত ধরেছে ইদানীং। বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল নাই চালিয়ে দিচ্ছে অ্যাবস্ট্রাক্ট বংচং। বিরক্তিকর। কী সুন্দর সব বইয়ের প্রচ্ছদ আগে হয়েছে। কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, হাশেম খান, প্রাণেশ মণ্ডল করেছেন। এখন এরা কী বানায়? এইসব বইয়ের মলাট কোনোদিন লেখকের ললাট হয়ে উঠতে পারবে?


নির্বাণের স্বত্তাধিকারী রাজিউদ্দিন ডাবলু এই শীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অবস্থা খারাপ। বাংলাবাজারে উপস্থিত হয়েছে এসরাজ, নির্বাণের ম্যানেজার গোল হাসান বেজার মুখে এসরাজকে কথাটা বলল। গোল হাসানের এক্সপ্রেশন বোঝা যায় না। গোলাকৃতি সে। পৃথিবী বা কমলালেবুর মতো, দুই দিকে চাপা। গোল চোখ মুখ। গোলের প্রতিটা প্রতিশব্দ ব্যবহারার্থে অনেক গোল দিয়ে বানানো একটা মানুষ। রাজিউদ্দিন ডাবলুর অবস্থা খারাপ মানে কী? কতটা খারাপ?


এসরাজ বলল, ‘মরে যেতে পারেন?’
গোল হাসান বলল, ‘এখনই কিছু বলার উপায় নাই। তবে আজকে ভোররাত্রে আমি স্বপ্নে আমার মজু মামারে দেখছি। হেঁটে যাইতেছে। আমি বললাম মজুমামা কই যাও তুমি? মজুমামা বলল আমার ভাইগ্না গোল হাসান মারা গেছে। তার কবর জিয়ারত করতে যাই।’
‘আপনি এই স্বপ্ন দেখে আনন্দিত হয়ে আছেন?’
‘তা আছি। দুপুরে ক্যাফে কর্ণারে খাইছি। মানে নিজেরে খাওয়াইছি। দুইটা ক্রাম চপ, দুইটা কাটলেট। শোনেন, রাজিউদ্দিন স্যার যদি মরেনও, আমাদের বেতন ভাতা দিয়া মরবেন।’
 

কথা সত্যি।

রাজিউদ্দিন ডাবলুকে দেখতে তার শ্যালক মসি হাসপাতালে গিয়েছিল। রাজিউদ্দিন ডাবলু মসিকে থার্টি ফাস্টে পার্টি করবেন বলেছেন, সিগারেট ধরানোর কথা বলেছেন।
‘সিগারেট ধরা, মসি। তোর কাছে সিগারেট নাই?’
‘না।’
‘এক শলা বগা কিনে নিয়ে আয়।’


বগা সিগারেট বিলুপ্ত দেশী সিগারেট। কোম্পানি নাম রেখেছিল, কিংস্টর্ক। মানুষজন বাংলা করে নিয়েছিল ‘বগা’। সিগারেটের বাংলা কী? গুপ্ত কাকা একটা বাংলা করেছিলেন, তাম্রকূট শলাকা। ইন্টেলেকচুয়াল উচ্চমার্গতার কারণে সেই বাংলা গ্রহণযোগ্য হয় নাই। বিলুপ্তযোগ্য জিনিস হয়েছিল, বগা সিগারেটের মতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে।—হাইহিলের একটা সুন্দর বাংলা আছে। খুরওয়ালা জুতো। খুরওয়ালা জুতো পরা এক মহিলা পরশু এসরাজের পা মাড়িয়ে দিয়েছেন। শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে।

 

নিপাতনে সিদ্ধ নাট্যসম্প্রদায়ের নাটক ‘প্রাগৈতিহাসিক’ দেখতে গিয়েছিল এসরাজ। ভিখু চরিত্রে যে অভিনয় করেছে মনে মনে তার কপালে আঠারটা উস্টা মেরেছে। শালা তুই ভিখু না চিকু? অর্ধেকের বেশী ডায়ালগ শোনাই যায় নাই, পেটে রেখে ডেলিভারি দিয়েছে। বিরক্তিকর।—রাতে পায়ে ব্যাথা হয়েছিল এসরাজের। ‘মুভ’ দিয়ে কমেছে। সকালে অল্প ব্যাথা হয়েছে। এখন নাই।


রাজিউদ্দিন ডাবলু ফিবছর থার্টি ফাস্ট নাইট পার্টি করেন। অভ্যাগতদের মধ্যে এসরাজ থাকে। ১৭ই ডিসেম্বর আজ। হিসাব মতো থার্টি ফার্স্টের আর ১৩ দিন বাকি, রাজিউদ্দিন ডাবলু কি এই ১৩ দিনে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন? পার্টি উপযোগী হয়ে উঠতে পারবেন? দেশের পরিস্থিতিও বিবেচনার আছে।
 

গোল হাসান বলল, মহিবুল হক ন্যাথানিয়েল হথর্নের ‘দ্য গোল্ডেন স্টোরি বুক’ অনুবাদ করেছেন। এই বইতে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’, ‘মিডাস টাচ’ এই গল্পগুলো আছে। ছেলেদের উপযোগী করে এই পৌরাণিক গল্পগুলো লিখেছিলেন হথর্ন। মহিবুল হক ভালো অনুবাদক। পুরনো ক্লাসিক অনুবাদ করেন। সারভেনতেসের ‘ডন কিহোতে’, ব্রাম স্টোকারের ‘কাউন্ট ড্রাকুলা’, রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ‘ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড’ অনুবাদ করেছেন। মূলানুগ অনুবাদ। মিলিয়ে পড়ে দেখেছে এসরাজ। কোনও ত্রুটি সারাই করতে হয় নাই। গোল হাসান বলল, ‘দ্য গোল্ডেন স্টোরি বুক’ মেইলে সেন্ড করে দেবে। তার মানে রাজিউদ্দিন ডাবলু অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও কাজকর্ম বন্ধ নাই নির্বাণ প্রকাশনার। এটা ভাল।


কথাসাহিত্যিক বুলবুল চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয়ে গেল ক্যাফে কর্ণারে। সরল সিধা, আলাভোলা বুলবুল চৌধুরী। এসরাজকে দেখে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন, ‘বসেন এসরাজ। বসেন চা খান। আর কিছু খাইবেন? ক্রামচপ? কাটলেট? খান রে মিয়া।’
‘কাটলেট আর চা খাব, বুলবুল ভাই।’
‘হইল। ফটিক, এনে দুইটা কাটলেট দেওরে ভাই। চা দিও পরে। হাসান, আপনে ভালা মানুষ না মিয়া। আপনেরে ভালা মানুষ মনে করতাম।’
 

গোল হাসান বলল, ‘ক্যান ওস্তাদ, আমি আবার কী করলাম?’
‘মনিরে কী কইছেন মিয়া আপনে? কানতে কানতে ঘরে গেছে মেয়েটা। বাংলাবাজারের ব্যাক মাইনষে দেখছে। আমি মিয়া একটা মেয়েরে পাঠাইলাম, চাকরি দিলে দিবেন না দিলে নাই, কুপ্রস্তাব দিয়া বইছেন। অন্তরে রহম নাই মিয়া আপনের?’
‘এইটা একটা ভুল বুঝাবুঝি ওস্তাদ। কসম, মনিরে আমি কুপ্রস্তাব দেই নাই। আমি কী বললাম সে কী বুঝল!’
‘বাদ দেন হাসান। বাংলাবাজারে আপনে কয়দিন মিয়া? হইল। কাটলেট খান।’
 

ফটিক কাটলেট আর সালাদ রেখে গেল। ক্যাফে কর্ণারের সালাদের সবিশেষ বৈশিষ্ট আছে। সেটা এখানে প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। প্রয়োজনও নাই। নির্লজ্জ গোল হাসান কাটলেটে কাঁটাচামচ বসিয়ে বলল, ‘আপনে কাটলেট খাইবেন না ওস্তাদ?’
‘না রে মিয়া। আরেক কাপ চা খামু।’
‘বুলবুল ভাই এখন কী লিখতেছেন?’ এসরাজ বলল।
‘আর কিছু লেখি না রে মিয়া, দেখা লিখতাম, দেখা হয়ে গেছি।’
দেখা লিখতেন, দেখা হয়ে গেছেন। বুলবুল চৌধুরী?
 

চা কাটলেটের বিল দিতে গিয়ে পারল না এসরাজ, বুলবুল চৌধুরী দিয়ে দিলেন। তারা উঠল। বুলবুল চৌধুরী বললেন গোপনঘাট যাবেন। বাস ধরে যাবেন। গোপনঘাট কোথায়?
আবার নির্বাণ-এর অফিসে ফিরে সিগারেট ধরিয়ে এসরাজ গোল হাসানকে বলল, ‘বুলবুল ভাই মারা গেলেন, দুই বছর হয়ে গেছে না?’
গোল হাসান বলল, ‘তিন বছর।’
‘বাংলাবাজারে নিয়মিত আসেন?’
‘নিয়মিত না। বিশেষ দিন বিশেষ ক্ষণে দেখা যায়। আহমদ ছফা স্যার আসেন না বহুদিন। কায়েস আহমদরে দেখছি একদিন মাওলায়।’
 

মাওলা মানে মাওলা ব্রাদার্সের অফিসে। কথাসাহিত্যিক কায়েস আহমদ। বুলবুল চৌধুরীর ঘনিষ্ট বন্ধু। তেত্রিশ বছর আগে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতাল থেকে ফোন এল। রিসিভ করে কিছুক্ষন কথা বলে রেখে গোল হাসান এসরাজকে জানাল, রাজিউদ্দিন ডাবলুর অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। ভালো খবর। এসরাজ নির্বাণ থেকে উঠল, ‘যাই হাসান।’
গোল হাসান বলল ‘বস, একটা কথা বলি যদি বিরক্ত না হন।’
‘হবো না, বলো।’
‘আপনে কি বিয়া করবেন না? যদি করেন, আমার সন্ধানে ভালো পাত্রী আছে। এয়ার হোস্টেস। পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি হাইট। দেখতে রাশমিকা মানদানার মতো। তবে রাশমিকা মানদানা কালো, ওফেলিয়া ফর্সা।’
‘ওফেলিয়া? কোন দেশের মেয়ে?’
‘কোন দেশের মানে? বাংলাদেশের বস। ঢাকা শহরের। শতভাগ বঙ্গললনা। রবীন্দ্রসঙ্গীত পারে, নজরুলগীতি পারে, ভাওয়াইয়া পারে, ভাটিয়ালি পারে।’
‘ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালি দুইটাই পারে? এর এখনও বিয়া হয় নাই?’
‘আপনি তারে বিয়া করবেন, সত্য গোপন করব না বস। আপনার হয়তো এইটা প্রথম বিয়া হবে, তার হবে তৃতীয় বিয়া।’
‘আগের দুই ঘরের ছেলেমেয়ে নাই?’
‘না বস। ছেলেমেয়ে আপনে উৎপাদন করবেন।’
‘পরিশ্রমের কাজ, হাসান। ছেলেমেয়ে থাকলে ভালো হতো। আচ্ছা আমি যাই।’
‘ওফেলিয়ার ছবি আপনেরে হোয়াটস অ্যাপে দিতেছি বস।’
‘আচ্ছা হাসান। আমি যাই।’
 

রিকশা ভিক্টোরিয়া পার্ক পার হয় নাই, ওফেলিয়ার ছবি পাঠাল হাসান। চারটা প্লাস তিনটা। হট শট বঙ্গললনা। ওফেলিয়া দেখতে কিছুটা রাশমিকা মানদানার মতো বটে। ফর্সা-া-া-া। একবার দেখে সাতটা ছবিই ডিলিট করে দিল এসরাজ। বিরক্তিকর।
 

রুপন্তী মার্টিন কল দিল। এসরাজ ধরল না। রুপন্তী মার্টিনের সঙ্গে এভাবে রাস্তাঘাটে না, নিরুপদ্রবে কথা বলতে ভালো লাগে তার। মেসেজ দিয়ে রাখল, পরে কল দেব।—যানজট রাস্তায়।—সবসময় থাকে এদিকে। বিরক্তিকর।
 

মেস ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির গলিতে। হাজী বকশের মেস বলে মানুষজন। ছয়তলা বিল্ডিং। এসরাজ থাকে দুই তলায়। ৪২ নাম্বার রুম। রুমে ফিরে সুসংবাদ শুনল। রুমের সর্বকনিষ্ট বোর্ডার মজলিশ। দুটো জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ফুল স্কলারশিপ অফার করেছে। সেপ্টেম্বরে জার্মানি চলে যাবে মজলিশ। রুমে এই উপলক্ষে সামান্য আনন্দ আয়োজন করা হয়েছে। বাতেন মামা স্পনসরড আয়োজন। নান, কাবাব ও কফি। বিশেষ আয়োজন এক বোতল জ্যাক ডানিয়েল। ৪২-এর বোর্ডার তারা চারজন। বাতেন মামা, লতিফ ভাই, মজলিশ, এসরাজ।

 

বাতেন মামা রহস্যমানব। নিজের পরিচয় দেন, মধ্যস্থতাকারী। লতিফ ভাই মঘা শাস্ত্রীয় ঔষধালয়ের রিপ্রেজেনটেটিভ। মদখোর লতিফ ভাই ও এসরাজ। তবে বাতেন মামার ডিস্টার্ব হবে বিবেচনা করে তারা মদ খায় ৪৭ নাম্বারে গিয়ে। ৪৭ নাম্বারে বীতশোক চন্দ থাকেন। জন্মমদখোর। ৪৭ নাম্বারে জ্যাক ডানিয়েলের বোতল উচ্চপর্যায় নিল তিন মদখোরকে। বা শুধু এসরাজকে নিল। এসরাজের মনে হলো আজ থার্টি ফার্স্ট নাইট। আতশবাজি ফুটছে সর্বত্র। মাতাল এসরাজ ফোনে হ্যাপি নিউ ইয়ার দিল ড্যাগার নাসের, চাক্কু শামিম, চাপাতি ফরিদ, নানচাকু মান্না, কুংফু তুষার, তায়কান্ডো খোকন, মাকু দ্য গবলিন ইত্যাদিকে। এরা তার বন্ধু শৈশবের। আর কথা বলল সম্ভবত নিউজ প্রেজেন্টার শমিতা জান্নাত ও বিনোদন সাংবাদিক কবিরুল সৌরভের সঙ্গে। এছাড়া আর কিছু মনে নাই।
 

মেঘরা আমার বোন ছিল আর
মেঘরা ছিল ভাই
এছাড়া আর কিচ্ছু মনে নাই।
কিচ্ছু মনে নাই।
 

আটষট্টি ভাগ ব্যাপার নিয়ে বিরক্ত থাকে, পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ছিয়াশি ভাগ বিরক্ত হলো এসরাজ। অনলাইনে দৈনিক ‘গার্ডিয়ান অ্যানজেল’ পত্রিকা দেখে। তাদের নিজস্ব প্রতিবেদক রিপোর্ট করেছে, বিষাক্ত মদ্যপানে ৩ জনের মৃত্যু।—ফকিরেরপুল হাজী বকশের মেসে থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টি করতে গিয়ে বিষাক্ত মদ্যপানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত তিন ব্যাক্তি হলেন, বীতশোক (৪৭), লতিফ (৪৩) ও এসরাজ (২৯)। বিরক্তিকর।
একটা সকাল এভাবে শুরু হতে আছে?
বিস্রস্ত মস্তিষ্ক বিরক্ত এসরাজ আবার ঘুম দিল।
বালকগণ ইংরেজিতে অনুবাদ করো : আবার এসরাজ ঘুমাইয়া পড়িল।

সব খবর