সর্বশেষ

২০ ফেব্রুয়ারি শুরু

বইমেলা পেছাচ্ছে না, রমজানে আয়োজন ঘিরে বাংলা একাডেমি–প্রকাশক দ্বন্দ্ব

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫১
বইমেলা পেছাচ্ছে না, রমজানে আয়োজন ঘিরে বাংলা একাডেমি–প্রকাশক দ্বন্দ্ব

পূর্বনির্ধারিত সময়েই আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। রমজান মাসের মধ্যেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। তবে এই সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করছেন প্রকাশকদের একটি অংশ। তাঁদের আশঙ্কা, রোজার মধ্যে মেলা হলে পাঠকসমাগম কমে যাবে এবং প্রকাশনা খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।

 

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বইমেলা পরিচালনা কমিটি জানায়, নানা অনিবার্য বাস্তবতার কারণে এবার ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাষাশহীদদের স্মরণে মাসব্যাপী এই আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ—এ কথা উল্লেখ করে আয়োজকরা বলেন, সময় পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং রমজান উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে ইফতার, নামাজ ও তারাবির বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে।

 

বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মেলার প্রস্তুতির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাই এ পর্যায়ে সময় পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত নয়। ভিন্নমত থাকা প্রকাশকদের অংশগ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।

 

তবে প্রকাশকদের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা বলেন, নির্বাচনের পর রোজার মধ্যে মেলা শুরু হলে তা হবে ‘প্রাণহীন’। পাঠক ও দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমে গেলে মেলা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে। তাঁদের ভাষায়, “পাঠক-ক্রেতা ছাড়া বইমেলা নিষ্প্রাণ সরকারি আয়োজন ছাড়া আর কিছুই নয়।”

 

প্রকাশকদের অভিযোগ, কাগজ ও উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিক্রিতে দীর্ঘ মন্দার কারণে প্রকাশনা শিল্প এমনিতেই সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে রোজার সময় মেলা আয়োজন করলে লোকসান আরও বাড়বে। স্টল পরিচালনায় নিয়োজিত অধিকাংশ কর্মী শিক্ষার্থী হওয়ায় সারা দিন রোজা রেখে কাজ করা ‘অমানবিক’ বলেও দাবি করেন তাঁরা।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের প্রকাশক ঈদের পর মেলা আয়োজনের পক্ষে লিখিত মত দিয়েছেন। এই মতামত উপেক্ষা করে মেলা করলে তা ‘ব্যর্থ ও কলঙ্কিত আয়োজন’ হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

 

প্রকাশকদের পক্ষ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হলেও আপাতত নিজের অবস্থানেই অনড় বাংলা একাডেমি। ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিক বাস্তবতার টানাপোড়েনে এবারের বইমেলা ঘিরে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

সব খবর