অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ১৮ মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০টি সভায় অনুমোদন পেয়েছে ১৫৩টি নতুন প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ অর্থ চট্টগ্রাম বিভাগে বরাদ্দ হয়েছে, যা আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগে বরাদ্দ হয়েছে ৮৯ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ঢাকা বিভাগ—১৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। খুলনা বিভাগে বরাদ্দ হয়েছে ১৩ হাজার ১২৮ কোটি টাকা, সিলেট বিভাগে ৫ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা এবং রংপুর বিভাগে ৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। তবে রাজশাহী, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে। রাজশাহীতে মাত্র ২ হাজার ৯৩৭ কোটি, বরিশালে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি এবং ময়মনসিংহে মাত্র ৩৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, পানি সরবরাহ প্রকল্প, কালুরঘাটে রেল কাম রোড সেতু এবং বে টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণ ব্যবহার করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বাড়ি চট্টগ্রামে হওয়ায় বরাদ্দে আঞ্চলিক প্রভাব থাকতে পারে। পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশিদ মনে করেন, সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে সম্পদের সুষম বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। এক অঞ্চলে অতিরিক্ত বরাদ্দ বৈষম্য তৈরি করে ক্ষোভ বাড়াতে পারে।
তবে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আখতার দাবি করেছেন, প্রকল্পগুলো জাতীয় স্বার্থে নেয়া হয়েছে। তাঁর মতে, চট্টগ্রাম দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই মত দিয়েছেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, সব অঞ্চলে সমান সুযোগ দেয়া জরুরি হলেও চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বরাদ্দ বেশি পাওয়া স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকল্প বরাদ্দে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি আঞ্চলিক পক্ষপাতের ফল, আবার কেউ বলছেন জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত। তবে পিছিয়ে থাকা বিভাগগুলোতে কম বরাদ্দ বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট করছে।