নবম বেতন স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বেতন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি ও জাতীয় নির্বাচনের আগেই তা কার্যকরের দাবি তুলেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। দাবি পূরণে বিলম্ব হলে চলমান নির্বাচনি কার্যক্রম বয়কট করার হুমকি প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ বক্তব্য দেন। তারা জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত গণকর্মচারীদের ‘ভুখা মিছিল’-এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়। এতে শতাধিক কর্মচারী আহত হন, যাদের অনেকেই এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংগঠনের নীতি-নির্ধারণী কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নোমানুজ্জামান আল আজাদ বলেন, “দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেলের অপেক্ষায়। সরকার নিজেই অর্থের সংস্থান থাকার কথা বলেছে। তাহলে প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরি করার যৌক্তিকতা নেই।” তিনি অভিযোগ করেন, দাবি বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং আন্দোলনে বলপ্রয়োগ কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব বদরুল আলম সবুজ বলেন, অবিলম্বে বেতন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অসন্তোষ বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নির্বাচনি প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নেতারা আহত কর্মচারীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং পুলিশি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অতিরিক্ত মহাসচিব মো. রোকনুজ্জামান, কার্যকরী সভাপতি মো. সেলিম ভূইয়া, রেলওয়ে ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে পে-স্কেল ইস্যুতে সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষ বাড়তে থাকায় প্রশাসন ও নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংলাপ ও সমাধানের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।