বাংলাদেশে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকে অন্তত ১৬ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এতে বহু মানুষের মধ্যে আবারও নির্বাচনকালীন সহিংসতার ভয় ফিরে এসেছে।
গত ৭ জানুয়ারি বিএনপি কর্মী আজিজুর রহমান মুসাব্বির গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। বিএনপির ছাত্র সংগঠনের নেতা কাজী শাওন আলম বলেন, “পুলিশ বলছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, কিন্তু ভয় তো তাতে কমে না। নির্বাচন এলেই সহিংসতা যেন অনিবার্য হয়ে ওঠে।”
২০২৪ সালের সহিংসতার মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার পতন হওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন সহিংস রাজনীতির অধ্যায় শেষ হয়েছে। তবে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম এই নির্বাচনের আগেই আবার বাড়ছে খুন, হুমকি ও সংঘর্ষ।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর ২৩ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এর আগে ঢাকায় জামায়াত নেতা আনোয়ারুল্লাহ এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যুবনেতা শরীফ ওসমান হাদী নিহত হন। নিহতদের বেশিরভাগের হত্যাকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক বলা হয়নি, তবে দলীয় কর্মীদের মধ্যে আশঙ্কা কাটেনি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এ সময় অন্তত ৬২টি নির্বাচনসংক্রান্ত সংঘর্ষ ঘটেছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন গুলিতে মারা গেছেন, যা অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, অতীতের নির্বাচনগুলোতেও সহিংসতা ছিল নিয়মিত ঘটনা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন, ২০১৮ সালের আগেও বহু সহিংস ঘটনার নথি রয়েছে। এই ইতিহাসই বর্তমান আতঙ্ককে আরও গভীর করছে।
এবার সহিংসতার একটি বড় অংশ আসছে দলীয় কোন্দল থেকেও। টাঙ্গাইলে বিএনপির এক ছাত্রনেতা অভিযোগ করেছেন, দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, বিএনপিতে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন, যা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
এদিকে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষও বাড়ছে। ঢাকার মিরপুর, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দুই দলের কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও বর্তমান সহিংসতা মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বড় পরীক্ষার মুখে।