বিটিসিএলের সক্ষমতা বাড়াতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া ‘ফাইভজি উপযোগীকরণে বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পটি এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কেনার অভিযোগে দুদক অনুসন্ধান শুরু করলেও বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাংক ম্যানেজারকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
বুয়েটের ফিজিবিলিটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালে বিটিসিএলের ব্যান্ডউইথ চাহিদা হবে ২৬.২ টেরাবাইট। এজন্য ১০০জি লাইন কার্ড স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেই সুপারিশ উপেক্ষা করে ১২৬ টেরাবাইটের যন্ত্রপাতি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে ১৬৫ কোটি টাকার প্রকল্পকে ৩২৬ কোটি টাকার ব্যয়ে রূপান্তর করা হয়।
২০২৩ সালে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে এবং প্রাথমিকভাবে অনিয়মের প্রমাণ পায়। এর মধ্যে রয়েছে—অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, সরকারি অর্থের অপচয়, পিপিআর লঙ্ঘন, মানহীন যন্ত্রপাতি আমদানি এবং বুয়েটের প্রস্তাবের চেয়ে চার গুণ বেশি যন্ত্রাংশ কেনার চেষ্টা। অনুসন্ধান চলমান থাকলেও প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি।
সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে ফ্যাক্টরি ভিজিটের জিও বাতিল করেন। পরে দায়িত্ব নেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, যিনি প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। তিনি দুদক চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং কার্যক্রম চালু রাখার অনুরোধ করেন। এরপর চীন থেকে ফ্যাক্টরি টেস্ট ছাড়াই মালপত্র আনা হয়।
প্রকল্পে যন্ত্রাংশ সরবরাহের দায়িত্ব পায় হুয়াওয়ে টেকনোলজিস। প্রতিষ্ঠানটি মালপত্র পাঠানোর পর প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংক ম্যানেজারকে চাপ দেওয়া হয়। চীনের ব্যাংক সুইফটের মাধ্যমে অর্থ দাবি অব্যাহত থাকে। হুয়াওয়ের বাংলাদেশি লবিস্টরাও নিয়মিত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
ইউসিবিএলের সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার আনিস উর রহমান গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে জানা গেছে, তিনি একাধিকবার দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন। অনুসন্ধান শেষ না হওয়ায় অর্থ ছাড়তে পারছেন না।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন এবং শিগগির প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
অন্যদিকে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দাবি করেছেন, যন্ত্রপাতি আমদানির আগে একাডেমিক ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে টেস্টিং করা হয়েছে।