বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে ঘিরে দুবাইয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রায় ৪৫ কোটি টাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য ও সরকারি নথির তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির প্রশ্ন উঠেছে।
কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আহসান এইচ মনসুর দাবি করেন, তিনি কোনো দিন বিদেশে টাকা পাঠাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ের ফ্ল্যাটটি তার কন্যা মেহরিন সারার এবং এটি ২০২৩ সালে কেনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই সম্পত্তির দলিলে তার নাম কেবল অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ আছে।
তবে দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট–এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। দলিলপত্রে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির অবস্থান দুবাইয়ের আল জাদ্দা এলাকায় এবং মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুর—উভয়ের নামই উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাকে অভিভাবক হিসেবে আলাদা করে চিহ্নিত করা হয়নি।
দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি কেবল অভিভাবক হিসেবে যুক্ত থাকেন, তাহলে দলিলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। অন্যথায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলে তা সরাসরি মালিকানার ইঙ্গিত দেয়। ফলে এ ক্ষেত্রে তার নামের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি জিবুতি যান এবং ২২ ডিসেম্বর ইথিওপিয়ায় অবস্থান করেন। একই দিনে আদ্দিস আবাবা থেকে দুবাইয়ে পৌঁছান তিনি। ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের দিন তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন।
দুবাইয়ের সম্পত্তি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দলিল সম্পাদনের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। বিকল্প হিসেবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ডিজিটাল স্মার্ট সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দলিলে কোনো প্রতিনিধির নাম উল্লেখ নেই; বরং স্বাক্ষর রয়েছে। এতে তার সরাসরি উপস্থিতির সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে এখনো তার পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।