বাংলাদেশে কৃষি খাত আবারও বড় চাপের মুখে পড়তে যাচ্ছে। সম্প্রতি সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৮৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ছিল ১৬ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা ২৫ পয়সা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর থেকে নতুন দর কার্যকর করবে। এর ফলে সার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, কৃষক পর্যায়ে সারের দাম বাড়ানো হবে না। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত অনুযায়ী ভর্তুকি কমানো হলে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভর্তুকি না বাড়ালে কৃষকরা সারের ব্যবহার কমিয়ে দিতে পারেন, যা কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বাড়তি গ্যাসের দাম থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এলএনজি আমদানি করা হবে। এতে বন্ধ থাকা চারটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। তবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি ছাড়া বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ায় সার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, কৃষকরা বাড়তি খরচে ফসল ফলাবেন। এতে খাদ্য উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের চাল, ডাল, শাক-সবজি আরও বেশি দামে কিনতে হবে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কৃষি উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশই সারের পেছনে যায়। উৎপাদন খরচ বাড়লে ধানের দাম বাড়বে, যা চালের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৯ লাখ মেট্রিক টন সারের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ আমদানি করা হয়, আর ২০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত। ইউরিয়া সার গ্যাসনির্ভর হওয়ায় গ্যাসের দাম বাড়লে এর উৎপাদন খরচ বাড়বে। তবে অন্যান্য সার যেমন টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি গ্যাসনির্ভর নয়। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ না দিতে প্রয়োজনে অন্য উপায়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে।
অন্যদিকে শিল্প খাতও গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে শিল্প-কারখানা ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। নতুন করে দাম বাড়ায় শিল্পে বিনিয়োগে বাধা তৈরি হচ্ছে এবং সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি কৃষি ও শিল্প উভয় খাতকে চাপে ফেলেছে। কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়লে খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তার জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।