সর্বশেষ

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০
নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা এবং ভিন্ন ধর্মচর্চাকারী নাগরিকদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক জানায়, এসব ঘটনা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করা হয়।

 

আসকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও কর্মীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলায় সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতা নিহত হন এবং বিএনপির এক নেতা গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এছাড়া গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

সংস্থাটি আরও জানায়, নির্বাচনি প্রচারণাকালে নারীদের বোরকা বা নেকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়। নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে কোনো নাগরিককে অপমান বা চাপের মুখে পড়তে বাধ্য করা সংবিধানে নিশ্চিত সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থি।

 

এ ছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ বিতরণের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিষ্টাচারবিরোধী ও অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগও গণমাধ্যমে উঠে আসছে বলে উল্লেখ করে আসক।

 

আসক মনে করে, নির্বাচন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সহিংসতা, ধর্মের অপব্যবহার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ইসি

১৭ সংস্থা থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে ইসি