সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি সেখানে নয়—সচিবালয়ের ওপর পড়া উচিত ছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার গাড়িচালক ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, সচিবালয়ের প্রতি মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে। শুধু সচিবালয় নয়, দেশের প্রায় সব সরকারি দপ্তরের প্রতিই জনগণের গভীর অসন্তোষ রয়েছে।
ফাওজুল কবির খান আমলাতন্ত্রকে “জগদ্দল পাথর” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই প্রশাসনিক কাঠামো জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। সরকারি কর্মকর্তা ও সচিবদের মধ্যে মানবিক দায়িত্ববোধের চরম অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “তারা সরকারি গাড়িতে চড়েন, অফিসে যান, কিন্তু সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।”
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে আমলাতন্ত্রকে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, সড়কসংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালা—বিশেষ করে স্ক্র্যাপ নীতিমালা—বাস্তবায়নে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহুবার উদ্যোগ নিয়েছেন। উপস্থিত কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকবোর্ডে দাঁড়িয়ে বুঝিয়েছেন কী করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতায় কিছুই এগোয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রশাসনের একটি বড় অংশ পরিবর্তন চায় না; তারা নিজেদের সুযোগ-সুবিধা, পে-স্কেল বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির সুযোগ বজায় রাখতেই বেশি আগ্রহী।
বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমরা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছি। মনে করছি কিছুই হবে না। কিন্তু অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—একটি হলো নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কার্যকর সংস্কারের পথে এগোনো, অন্যটি হলো ধ্বংস বা প্রলয়ের জন্য অপেক্ষা করা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশ শেষ পর্যন্ত প্রথম পথটিই বেছে নেবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন। ঘটনাটি তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে।