পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিপি) বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য ১ লাখ টন সাদা চাল কেনার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র জারি করেছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দরপত্রটি প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি দৈনিক ডন। এতে বলা হয়, করাচি বন্দর হয়ে বাংলাদেশে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে ‘ইরি-৬’ মানের লম্বা দানার চাল কেনা হবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ নভেম্বর।
দরপত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের সর্বশেষ ফসলের মজুদ থেকে সংগ্রহ করা চাল হতে হবে মানবভোজ্য, কোনো ছত্রাক, দুর্গন্ধ, পোকামাকড় বা বিষাক্ত আগাছার বীজমুক্ত। কোম্পানি, অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠান ও একক মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবই প্রস্তাব জমা দিতে পারবে।
বাংলাদেশ গত ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা করে। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসে পাকিস্তান চীনসহ আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহজ করতে করাচি বন্দর ব্যবহারেরও প্রস্তাব দেয়।
তবে এই দ্রুত ঘনিষ্ঠতা বিশেষত ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক হঠাৎ অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে ওঠা—রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছ ও বিশ্বাসহীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের এই ‘অতি-আত্মসমর্পণমূলক’ মনোভাব অনেকের চোখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলেই মনে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতার প্রচেষ্টা অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক প্রভাব পুনরুদ্ধারের কৌশলের অংশ। বাংলাদেশের জন্য এমন বাণিজ্যিক সুযোগ স্বাভাবিক হলেও অতীত ইতিহাস বিবেচনায় অতিরিক্ত নির্ভরতামূলক সম্পর্ক কিংবা অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সান্নিধ্য ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।
একজন সিনিয়র বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেন, “বাণিজ্য সহযোগিতা আলাদা বিষয়, কিন্তু পাকিস্তান হঠাৎ এমন আগ্রহ দেখাচ্ছে যা কেবল ব্যবসার পরিধি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক লাভের ইঙ্গিত দেয়।”
বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে তাই শীতল মাথায় অগ্রসর হওয়া জরুরি—বিশেষত এমন সময়, যখন আঞ্চলিক ভূরাজনীতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের কৌশলগত ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।