৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগের দিনই পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিলেন প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একাংশ। লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করলেও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) তাতে সায় না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা।
বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র সাইফ মুরাদ ঘোষণা দেন, “রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কাছে আমরা হেরে গিয়েছি… আমরা এ পরীক্ষা বর্জন করছি।” তিনি দাবি করেন, বহু শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে এই বর্জনে শরিক হবেন এবং “এই বিসিএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।”
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় নতুন পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষার নোটপত্র গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেননি। পুরাতন পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুবিধায় এগিয়ে থাকবেন—এ দাবি তুলে তারা যৌক্তিক সময় পিছিয়ে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করলে শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় বৃহস্পতিবারের পরীক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন আন্দোলনকারীরা।
সাইফ অভিযোগ করেন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বদলে যাওয়া অগ্রাধিকার এখন তাদের নিজেদের সুবিধার দিকে ঝুঁকেছে। পরীক্ষার্থীদের ওপর জুলুম হলেও তারা দায়সারা বিবৃতি দিয়েছে।”
পিএসসির ঘোষণা অনুযায়ী, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ আট বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষা চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।