ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ৭৬টি মণ্ডপে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে প্রতি বছরের মতো এবারও সকাল থেকেই বাণি অর্চনা, আরতি ও পুষ্পাঞ্জলিতে মুখর হয়ে ওঠে জগন্নাথ হলের মাঠ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ থিমে সাজানো মণ্ডপে অঞ্জলি প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী জগন্নাথ হলই এ পূজার মূল কেন্দ্র। চারুকলা অনুষদের তৈরি দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা এবারও হলের পুকুরের মাঝে স্থাপন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।

এবারের পূজায় বেশিরভাগ মণ্ডপই বিভাগভিত্তিক থিমে নির্মিত। ফাইন্যান্স বিভাগ আলোকসজ্জা ও আলপনার মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ধারণা তুলে ধরেছে। ইংরেজি বিভাগ হাতে আঁকা নকশায় মণ্ডপ সাজিয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের মণ্ডপে তুলে ধরেছেন সমসাময়িক নিপীড়ন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সুজিৎ বকশী সৌরভ বলেন, দুইবার অঞ্জলি দিতে পেরে ভালো লাগছে। আর একই বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবস্তী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাদের থিমে শুধু থেমে থাকা কলম বা পোড়া সংবাদপত্র নয়, বরং চা শ্রমিকের বঞ্চনা থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনে নিহত শিশুদের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাদের বার্তা—“যুদ্ধ নয়, শান্তি; মব নয়, সুবিচার।”

হল প্রশাসন জানায়, সময় স্বল্পতার কারণে এবার পূজার আগে সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তবে নির্দেশনা বিলবোর্ড ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। হলের প্রাধ্যক্ষ ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বলেন, সব আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মের নামে সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী এবং এসব অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বিদ্যা, শিল্প ও প্রতিবাদের মেলবন্ধনে এবারের সরস্বতী পূজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সামাজিক বার্তারও শক্তিশালী মঞ্চে।