দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে নির্ধারিত ‘খুরুজের জোড়’ ও ‘বিশ্ব ইজতেমা-২০২৬’ আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় খুরুজের জোড় এবং ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি নির্ধারিত বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করা যাবে না। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-৬ শাখার উপসচিব মো. আনোয়ার পারভেজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, তাবলিগ জামায়াত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে খুরুজের জোড় ও বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো ধরনের বড় সমাবেশ আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক বা সামাজিক সমাবেশ আয়োজন থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা তাবলিগ জামায়াতের জুবায়েরপন্থিদের প্রস্তাবিত আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষেত্রে কী হতো?
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসলামী মৌলবাদী ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি রাষ্ট্রক্ষমতার অনুকূল অবস্থান থাকা সত্ত্বেও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। এই নীরবতা অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করলে রাজনৈতিক দ্বৈততার প্রশ্ন সামনে আসে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধর্মীয় সমাবেশ বা কর্মসূচির চুড়ান্ত বাড়বাড়ন্ত থাকা সত্ত্বেও এসব গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে ‘ধর্মীয় কার্ড’ ব্যবহার করেছে—রাজপথে বিক্ষোভ, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এবং সরকারকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বারবার। অথচ ইজতেমা না হওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সেই প্রতিক্রিয়া অনুপস্থিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান ধর্মীয় আদর্শের ধারাবাহিকতা নয়, বরং ক্ষমতা ও স্বার্থনির্ভর রাজনীতির ইঙ্গিত বহন করে। তারা বলছেন, ধর্ম এখানে মূল চালিকাশক্তি নয়; বরং রাজনৈতিক সুবিধা ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নটি অনেক ক্ষেত্রেই নীতিগত অবস্থান নয়, বরং সময় ও ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কৌশল হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে।