সর্বশেষ

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫%, নিহত ৩৯৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৬
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫%, নিহত ৩৯৪: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

চলতি বছরের ঈদযাত্রায় সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির তথ্যমতে, ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। যা গত বছরের রোজার ঈদের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি।

 

সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, গত বছর একই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছিল। সেই হিসেবে এবার প্রাণহানি বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়ক-মহাসড়কে ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত এবং ২২৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

 

সংগঠনটি জানায়, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে তাদের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে গত ১৫ দিনে হতাহতের তুলনায় বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেশি।

 

দুর্ঘটনার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে। ঈদযাত্রায় ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং নিহতের ক্ষেত্রে ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

 

যানবাহনভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং বাকি অংশে কার, মাইক্রোবাস, নছিমন-করিমন ও সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে।

 

দুর্ঘটনার ধরনে মুখোমুখি সংঘর্ষ ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ, পথচারী চাপা ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এছাড়া কিছু দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করা যায়নি।

 

প্রতিবেদন বলছে, মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে। বাকি দুর্ঘটনা আঞ্চলিক সড়ক, রেল ও নৌপথে।

 

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে—মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, সড়কে রোড সাইন ও আলোর অভাব, বিভাজক না থাকা, অদক্ষ চালক, ফিটনেসহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো।

 

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, স্মার্ট ভাড়া ব্যবস্থাপনা চালু, দক্ষ চালক তৈরি, ডিজিটাল ফিটনেস সনদ প্রদান এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সার্ভিস লেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সব খবর

আরও পড়ুন

সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন

জ্বালানি সংকটে চাপে সরবরাহ ব্যবস্থা সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন

১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

বাংলাদেশে সার সংকটের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে সার সংকটের আশঙ্কা

২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

গণহত্যা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ভারতের

এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ভারতের

পাকিস্তান দিবস হয়ে উঠলো প্রতিরোধ দিবস

২৩ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তান দিবস হয়ে উঠলো প্রতিরোধ দিবস

আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

আজ ঈদুল ফিতর আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

গ্যাস খাতে মার্কিন প্রভাব বাড়ছে এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ