দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংগঠনটি বলছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে, “রাষ্ট্র সংস্কার কি কেবলই ফাঁকাবুলি?”
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের পূর্ণ সম্মতির ভিত্তিতে এবং দীর্ঘদিনের পরামর্শের ফলস্বরূপ দুদকের কার্যক্রমে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অথচ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক সম্মতি সত্ত্বেও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে এই ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে। টিআইবির মতে, এটি সরকারের অভ্যন্তরে সংস্কার-প্রতিরোধী মহলের প্রভাবের সুস্পষ্ট প্রমাণ।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত দুই দশকে দুদক যেভাবে জনআস্থার সংকটে ভুগেছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণে প্রস্তাবিত কমিটি গঠন ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাঁর মতে, এই কমিটির মাধ্যমে ষাণ্মাসিক পর্যালোচনা, গণশুনানি ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুদক আরও স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারত। কিন্তু সরকার বিষয়টি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে, যা সংস্কার সরকারের জন্যই স্ববিরোধী।
তিনি আরও জানান, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে—সরকারের অন্তত সাতজন উপদেষ্টা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন। অথচ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সকল রাজনৈতিক দল এই প্রস্তাবে একমত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, “সরকার জুলাই সনদ লঙ্ঘনের এই দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে কী বার্তা আশা করছে?”
তবে টিআইবি স্বীকার করেছে যে খসড়া অধ্যাদেশে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ছিল এবং সে কারণে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত অধ্যাদেশ থেকে ঐকমত্যে পৌঁছানো আরও কয়েকটি কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়ার ঘটনাকে তারা ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরে দুর্নীতি-সহায়ক ও সংস্কারবিরোধী চক্রের প্রভাব বলে অভিহিত করেছে।