ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটিকে “অত্যন্ত আশাহত করার মতো ঘটনা” বলে মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের জমা দেওয়া ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে দু-একটি বাস্তবায়িত হলেও তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং কিছু কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিচার বিভাগ স্বাধীন করার জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সংস্কার কমিশন ও হোয়াইট পেপার কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু যে মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার কাঠামো তৈরি করা। কিন্তু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুদক কিংবা পুলিশ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংস্কার হয়েছে কেবল অ্যাডহক ভিত্তিতে। ফলে কার্যকর পরিবর্তন আসেনি।
দুদক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান হিসেবে তিনি জানান, তাদের সুপারিশগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনের প্রস্তাব ছিল, যা ছয় মাস পর দুদকের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। প্রথমে দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সম্মত হলেও পরে সুপারিশগুলো বাতিল করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, দুদকের অভ্যন্তরে দুর্নীতি বিরাজ করছে। এমন কর্মকর্তাও আছেন যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়ার কথা, অথচ তারা নিয়মিত চাকরিতে বহাল আছেন। কমিশনের সুপারিশ ছিল, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাদের বরখাস্ত করে আদালতে সোপর্দ করতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে চারটি উপাদান জরুরি— রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা এবং সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার করা। তিনি মনে করেন, এই চারটি উপাদান একসঙ্গে কার্যকর হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অর্থ, পেশি ও ধর্মকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্মকে রাজনৈতিক মাইলেজের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বড় রাজনৈতিক দলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, যা জাতির আত্মপরিচয় ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ।